জীবনের অর্থ খোঁজার প্রয়াসে জীবন থেকে নেয়া কাহিনী অবলম্বনে রচিত ছোট গল্প অনাকাঙ্ক্ষিত অতিরিক্ত'।

আপডেট: ১৭ অগাস্ট ২০২৩, ১৩:৫৮

অনাকাঙ্ক্ষিত অতিরিক্ত

 

শুনেছে ওকে জন্ম দিয়ে মাত্র কয়েক মাস বেচে ছিলেন ওর মা। অবনী এক দূর সম্পর্কীয় বিধবা দাদি তখন তার বাবার আশ্রয়ে থাকতেন, বলা যায় তিনিই ওকে বাচিয়ে রেখেছিলেন।
সে বৃদ্ধার ছেলে মেয়েরা নিজ নিজ সংসার নিয়ে সবাই অন্যত্র থাকতো।
অবনীর বাবা দ্বিতীয় বার বিয়ে করেন। শুরু হয় সৎ মায়ের সংসারে ওর বড় হওয়া।
সকলের মত অবনী মায়ের গর্ভে জন্ম নিলেও প্রকৃত অর্থে সে তার জন্মদাত্রী মাকে দেখেনি। আর ওকে বাচিয়ে রাখা সে দাদিকেও ওর তেমন স্পষ্ট ভাবে মনে পড়ে না। অবনীর বয়স তখন পাচ বছর তখন তিনি মারা যান।
জ্ঞান হওয়ার পর থেকে সংসারে সৎ মা আর ভাই বোন দেখে বড় হয়েছে সে। সৎ মা সহ সংসারের সবাই অবনীকে তাদের কাজের জন্য বা কোন উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ব্যবহার করেছে। সংসারে সে ছিল অতিরিক্ত।
ওর বয়স যখন বারো তখন ওর বাবা ওকে ওদের বাড়ীর পাশের হাই স্কুলের হেড মাস্টারের অফিস ঘর পরিষ্কার করা আর ঘন্টা বাজানোর কাজে লাগিয়ে দিয়েছিল।
বৃদ্ধ হেডমাস্টার কেন জানি অবনীকে খুব পছন্দ করে ওর কাজের প্রশংসা করতেন। ঘড়ি দেখে ঠিক সময় মত ঘন্টা বাজানোর কাজটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে সেটা ঠিকমত করার জন্য ওকে উৎসাহিত করতেন।
বৃদ্ধ হেডমাস্টারই সেই প্রথম ওর শিশু মনে নিজের প্রতি একটা সম্মান বোধের জন্ম নিতে সাহায্য করেন। হেডমাস্টার সাহেবের উৎসাহে অননীর সেই প্রথম মনে হয়েছিল এ সমাজে সে অতিরিক্ত না, তারও প্রয়োজন আছে।
কিছুদিনের মধ্যে সেই হেডমাস্টার তাদের একাকী সংসারে অবনীকে আশ্রয় দিয়ে তার বাড়ীতে থাকা আর খাওয়ার ব্যবস্থা করলেন। তাতে অবনীর বাবা মা কোন রকম আপত্তি করেনি বরং তারা সেদিন বোধহয় একটা ঝামেলা থেকে মুক্ত হয়েছিল।
সেই থেকে ধীরে ধীরে অবনী ওর নিজ পরিবার বলতে যা বুঝায় তাদের থেকে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে পৃথক হয়ে গেল।

হেডমাস্টার সাহেব, তার তিন মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে বিয়ে দিয়ে দেয়ার পর শুধু মাত্র অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। দিনে দিনে অবনী একাকী দুজন মানুষের সংসারের একজন হয়ে উঠল। তারা দুজনই অবনীকে অন্ধের যষ্টির মত আকড়ে ধরল আর হেডমাস্টারের স্ত্রী ধীরে ধীরে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেন। হাসি খুশীতে ভরে উঠল তাদের সংসার।
হেডমাস্টার সাহেব অবনীকে বই কিনে দিয়ে তার স্কুলে ভর্তি করে দিলেন। কাজের পাশাপাশি সে ক্লাস করতে লাগলো।
ক্লাসে অবনী খুব ভাল ফল করতে লাগল। হেডমাস্টার আর তার স্ত্রী দুজনে মিলে অবনীকে সন্তান স্নেহে উৎসাহিত করার ফলে সে ম্যাট্রিকে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে পাশ করল।
আনন্দে হেডমাস্টার আর তার স্ত্রীর দুচোখ বয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো। এ বৃদ্ধ বয়সে তারাও যেন তাদের একটা অনন্য অর্জনের স্বাদ পেয়ে নিজেদের জীবনকে অধিকতর অর্থপূর্ণ ভাবতে লাগলেন।
এর পর পরই হেডমাস্টার সাহেবের স্ত্রী মারা গেল।
হেডমাস্টারের স্ত্রী যাকে সে বড় মা বলে ডাকত তার মৃত্যুতে অবনীর হৃদয় বিদীর্ণ হতে লাগল। অবনী নিজের মাকে দেখেনি, মাতৃস্নেহ কাকে বলে সত্যিই সে জানতো না, হেডমাস্টারের স্ত্রীই আজন্ম মাতৃহারা অবনীকে মায়ের ভালবাসার তৃপ্তি দিয়েছিল। তাকে হারিয়ে অবনী জীবনে এই প্রথম আপন সম্পর্কের স্বরূপটা উপলন্ধি করল।
মায়ের মৃত্যু সংবাদে হেডমাস্টারের তিন মেয়ে ছুটে আসলো। তারাও মাতৃ বিয়োগে কেঁদে কেটে একাকার করতে লাগলো। পাড়া প্রতিবেশী আর হেডমাস্টারের আত্মীয় স্বজন সবাই মেয়েদেরকে কাছে ডেকে বিভিন্ন ভাবে শান্তনা দিতে লাগলো।

সে পরিবেশে অবনীর কান্নাটা অনেকটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠাই সে কিছুটা অভিমান করে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে ওর ঘরে লুকিয়ে থাকল সারাক্ষণ।
তার অতি একজন আপন মানুষ যাকে সে হৃদয়ের টানে রাত বিরাত সেবা শুশ্রূষা করেছে, তার সব কাপড় চোপড় ধুয়েছে, এমন কি তার বিছানা নষ্ট হয়ে গেলেও নির্দ্বিধায় ধুয়ে পরিষ্কার করেছে, সর্বোপরি মৃত্যুর কয়েকদিন আগে থেকে তাকে নিজে হাতে খায়িয়েছে। সে মানুষটার মৃত্যুতে সমাজ তার কান্নার অধিকা্রের স্বীকৃতি দিল না!
অসময়ে স্ত্রী বিয়োগে হেডমাস্টার সাহেব শোকে মুহ্যমান হয়ে রইলেন।
পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজন এক এক করে চলে গেল। যাওয়ার সময় হেডমাস্টার আর তার মেয়েদের ডেকে বিভিন্ন ভাবে শান্তনা দিয়ে গেল সবাই। কিন্তু কেউ ঘূর্ণাক্ষরেও অবনীর কথা জিজ্ঞেসও করল না আর খোজও নিল না।
হেডমাস্টারের স্ত্রীর মৃত্যুতে অবনী কিছু হারিয়েছে বলে সমাজ স্বীকার করল না।

পরদিন হেডমাস্টারের মেয়েরা চলে যাবে, সবারই সংসার আছে। বাবাকে নিয়ে কি করা যায় সে কথা আলোচনার জন্য তারা জড় হল সে রাতে। বাবাকে কে দেখাশোনা করবে? তা নিয়ে কেউই কোন সমাধান বের করতে পারল না।
বাবাকে হয় তাদের কারো বাড়ীতে নিয়ে রাখতে হবে, নয়তো তাদের একজন পালা করে এ বাড়ীতে বাবার সাথে থাকতে হবে। এটা একটা সমাধান, তবে কে করবে সে সমাধান তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হতে লাগলো।

বৃষ্টি হচ্ছে কয়েকদিন ধরে, এ দম বন্দ হওয়া পরিবেশ থেকে অবনী যে দূরে কোথাও যেয়ে বসবে তারও উপায় নেই। সে ঘরের বারান্দার এক কোনে বসে সব আলোচনা তার কানে যেতে লাগল।
-ওই ছেলেটাতো আছে, ও বাবাকে দেখাশোনা করবে। আর বাবাও ছেলেটাকে খুব পছন্দ করে।
এক বোনের কথাটা অবনীর কানে যেতে এতক্ষণে সে মনে মনে বেশ ভাল অনুভব করল।

-সেখানেই তো সমস্যা!
কিছুক্ষন চুপচাপ থাকার পর অন্য এক বোন উত্তর দিল।
-কিসের সমস্যার কথা বলছে? ওর নিজের তো কোন সমস্যা নেই তাহলে কি বলছে ওরা?
ভাবল অবনী।
-বাবা ছেলেটাকে একটু বেশীই পছন্দ করে, সেটাই সমস্যা।
-তার মানে?
-মানে খুব পরিষ্কার, বাবার ভীমরতি ধরতে কতক্ষণ, বাবা ছেলেটাকে সম্পত্তির ভাগ দিয়ে দিলে কিছু কি করার থাকবে আমাদের কারো?
সবাই কিছুক্ষণ চুপচাপ। বোঝা গেল সবাই একমত পোষণ করল।
-তাহলে চল, বাবার ঘরে গিয়ে বাবাকে বলি আমাদের সম্পত্তি সব এখনি আমাদের তিন বোনের মধ্যে সমান ভাগ করে দলিল করে দিতে।
-তা ঠিক, এটা করলে নিশ্চিত থাকা যাবে।
তিন বোন মিলে ঠিক করল বাবার ঘরে যেয়ে বিষয়টা আলোচনা করবে।
-বাবা তো বছর খানেকের মধ্যে চাকরি থেকে অবসর নেবে, তাহলে তার অবসরের টাকা পয়সা সেটা নিয়েও তো চিন্তা করতে হবে?
-তা ঠিক, সব একেবারেই ফয়সালা হলে ভাল, না হলে সম্পত্তির মত সে টাকার ভাগও তো ওই ছেলেটাকে দিয়ে দিতে পারে।
আবার সবাই চুপচাপ কিছুক্ষণ।
-এখনি এ সব কথা বাবাকে বলা কি ঠিক হবে? তিনি মায়ের মৃত্যু শোকে মুহ্যমান, কিছুদিন গেলে বোধহয় ভাল হত।
ওদের বড় বোনের কথায় থামল ওরা।
-ঠিক আছে, সম্পত্তির কথাটা তুলবো, তারপর বাবার হাবভাব বুঝে না হয় পেনসানের কথা বলব কিনা ভেবে দেখা যাবে।

হেডমাস্টারের পরিবারে অবনী অতিরিক্ত একজন, সে না থাকলে এ সময় বাবার সম্পত্তি নিয়ে ওদের এত মাথাব্যথা হত না।
ভাবল অবনী।
ওদের মা মারা যাওয়াতে ওরা সবাই ব্যথিত সেটা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু সে ঘটনায় অবনীর হৃদয়ে যে রক্তক্ষরণ হচ্ছে তা কেউ জানলোও না আর খোজও নিল না।
রক্তের বন্ধনের নামে যুক্তি-অন্ধ সমাজ সংসার সম্পর্কের সহজ সংজ্ঞাটাই বেছে নেয়।
অবনীর ধমনিতে ওর বাবার রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। কিন্তু কই, ছেলে কেমন আছে, বেচে আছে না মরে গেছে সে খবর ওর বাবা তো কখনো নেয় না! আর ও নিজেও ওর জন্মদাতা বাবার জন্য কখনো কোন টান অনুভব করে না!
তাহলে সমাজ প্রদত্ত সংজ্ঞা অনুযায়ী আপন জনদের স্থান কি কেবল বাবার সম্পত্তি ভাগাভাগিতে!
কিন্তু তাই বা কি করে হয়? অবনীতো ওর নিজের বাবার সম্পত্তিতে ওর জন্মের অধিকারের ভাগের কথা কখনো মনেই করে না।
বাবার মত যাকে সে ভালবেসেছে, যিনি ওর কেউ না হয়েও প্রকৃত বাবার মত কাজ করেছে, তাদের কাছ থেকে আরো কিছু নেয়াতো দুরের কথা, তাদের ঋণ কখনো শোধ করতে পারবে না অবনী।
-আর ওরা তিন বোন কি করে ভাবল, যে আমাকে দিলেই সে সম্পত্তি আমি গ্রহন করব!
কথাটা ভাবতে অবনী আবেগাপ্লুত হয়ে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল।
তারপর ওদের তিন বোনের কথাগুলোর ভার সহ্য করতে না পেরে সেই বৃষ্টির মধ্যেই অন্ধকারে বারান্দা থেকে নেমে অনেকটা দৌড়ে পালিয়ে গেল।

হেডমাস্টার সাহেব দু বছরের মাথায় মৃত্যু বরন করলেন। মৃত্যুটা অবনীর হাতের উপরই হল।
সেদিন রাতে তিন বোন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বাবার ঘরে যেয়ে কি বলেছিল আর কি কি হয়েছিল হেডমাস্টার সাহেব মৃত্যুর আগে সে সব অবনীকে বলেছিলেন।
শোকাগ্রস্থ মানুষটি মেয়েদের আচরণে কষ্ট পেয়ে হাউ হাউ করে ছোট্ট শিশুর মত করে কেঁদেছিলেন সেদিন।

-বাবা, তুমি বাস্তবতার নিরিখে কথা বল। তোমাকে তো আজ না হয় কাল তো মরতেই হবে, না কি?
বড় মেয়ে যার জন্ম ওদের স্বামী স্ত্রীকে সব থেকে বেশী খুশী দিয়েছিল, তার মুখ থেকে কথাটা শুনে বৃদ্ধ তার ওই ভেঙ্গে পড়া শরীর নিয়েও উঠে বসেছিলেন।
-রক্তের সম্পর্ক বলে পবিত্র বিষয়টা তোরা আজ কলুষিত করে দিলি। তোর মায়ের বড় ভাগ্য যে তোদের এই লোভাতুর চেহারাটা দেখতে হল না। দেখলে সে নিজেকে ঘৃণা করত, তার নিজ উদর যেখানে তোদেরকে ধারণ করেছিল সে পবিত্র স্থানটা অপবিত্র ভাবতো।
তারপর মেয়েরা যখন অবনীর প্রসঙ্গ পেড়ে সম্পত্তি যেন কোন ভাবেই তাকে না দেয়া হয়, দিলে তারা প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে সতর্ক করল তখন অসহায় বৃদ্ধ হেডমাস্টার নিজেকে আর ধরে রাখতে না পেরে উত্তেজনায় কাপতে কাপতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন।
জ্ঞান ফিরে তিনি অবনী অবনী বলে ডেকে অবনীকে খুঁজলে মেয়েরা আরো উত্তেজিত হয়ে উঠেছিল।
একটা মারাত্মক স্ট্রোক হওয়াতে তার পুরো বা পাশটা অবস হয়ে গিয়েছিল।
কিছুদিনের মধ্যে মেয়েদের পক্ষ থেকে একজন উকিলের নামে বাবার সম্পত্তি থেকে সন্তানদের বঞ্চিত করে অবনীর নাম উল্লেখ করে একজন অনাত্মীয়কে দান না করার জন্য একটা নোটিস তিনি পেয়েছিলেন।

-অবনী আমার নিজের উপর ঘৃণা জন্মে গেছে। ওদের সবার কাছে আমার প্রয়োজন ফুরিয়ে গিয়েছে। আমার অর্জিত সম্পদের মুল্যের কাছে আমার জীবন মুল্যহীন।
সেদিন তিনি আফসোস করে একটা গল্প বলেছিলেন।
-রেশমি পোকা থেকে মানুষ সিল্কের সুতা উৎপাদন করে। পোকা বড় হওয়ার এক পর্যায়ে তাকে প্রচুর মালবারি পাতা খেতে দেয়া হয়। তারপর এক সময়ে এসে পোকাটা তার শরীরের চার দিক ঘিরে সুতার ককুন তৈরী করে নিজের গড়া ককুনের মধ্যে আটকে পড়ে।
নিজের উপার্জনের মধ্যে নিজেই আটকা থাকে!
-তারপর সুতার ককুন তৈরি শেষ হলে পোকাটা যখন সে ককুন থেকে বেরিয়ে নিজের জীবনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার চেষ্টা করে তখন তাকে তার তৈরি সে ককুন থেকে আর বের হতে দেয়া হয় না। কারণ সে যে লম্বা একটা সুতা তৈরি করেছে বের হতে হলে সুতোর কুন্ডলি কেটে তাকে বেরোতে হয় তাতে সুতো অর্থাৎ তার সৃষ্টি নষ্ট হয়ে যায়।
- সে অবস্থায় রেশম চাষি পোকাটাকে ভিতরে রেখে ককুনটি টগবগে গরম পানির মধ্যে সেদ্ধ করে পোকাটাকে মেরে ফেলে কোন কাটা ছেড়া ছাড়া সুতা তৈরি করে। সুতা তৈরির মুল কারিগরকে তার সৃষ্টির মধ্যেই অনাংক্ষিত অতিরিক্ত হিসেবে মরতে হয়।
সেদিন রেশমি সুতা তৈরির প্রক্রিয়া বর্ণনা করতে করতে বৃদ্ধ হেডমাস্টার বার বার থেমে থেমে নিজেকে সামলে নিয়ে কথা বলছিলেন। কথা বলতে বলতে তার গলা ধরে আসছিল।

সম্পত্তির উপর অবনীর কোন মোহ কোনদিন ছিল না সেটা তিনি জানতেন। আর তাই সম্পত্তির ভাগ তাকে দেয়ার কোন প্রস্তাব করার সাহস তিনি করেননি। মৃত্যুর আগে তিনি তার সব সম্পত্তি আর পেনসানের টাকার কথা উল্লেখ করে একটি ট্রাস্ট গঠন করে অনাথ আশ্রমে দান করেন।
-তোর মত একজন নির্লোভ মানুষের সাথে সাক্ষাৎ লাভ করতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। তোর সাথে দেখা না হলে আমি সমস্ত মনুষ্য সমাজের প্রতি বিরুপ ধারণা নিয়ে মৃত্যু বরন করতাম।
মৃত্যুর আগে তিনি অবনীকে কাছে ডেকে তার কানে কানে বলেছিলেন –মানুষের জীবন প্রকৃতই রেশমি পোকার মত, শেষে নিজের উপার্জনের মধ্যেই অনাংক্ষিত অতিরিক্ত বলে গণ্য হয়। প্রতিটি মানুষ অন্যের জন্য সম্পদ উৎপাদনের এক একটা রেশমি পোকা ছাড়া আর কিছু না।