জীবনের অর্থ খোঁজার প্রয়াসে রচিত ছন্দ কবিতা 'জীবন নদী"।

আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৪:০৬

জীবন ও নদী

 

জীবন আছে বলেই জীব, সে জীবন্ত
স্রোত আছে বলেই সে স্রোতস্বিনী, চলিছে অনন্ত।
জীবন সারাক্ষণ ধরে ধুকধুক করে, নীরবে বুকে
নদী বয়ে চলে কুল কুল তালে, সাগর অভিমুখে।

জীবন প্রবাহ হয় অর্থবহ, মৃত্যুর আলিঙ্গনে
নদী পায় পূর্ণতা, চলার সার্থকতা, সাগর সঙ্গমে।

বাধা এক ধাঁধা, বাধা করতে জয় প্রবাহ হয় বেগবান
বিধাতা দেন প্রতিবন্দকতা, যা তাঁর অপূর্ব এক দান।
বাধা দেখাবে রাস্তা, যদি থাকে আস্থা
বাধায় পথ, গন্তব্যের রথ, বাধায় করে সব ব্যবস্থা।

বাধা পারে যদি, থামাতে প্রবাহমান নদী
তবে থেমে যাবে জীবন, নদীর হবে মরণ।

জীবন নদী চলে নিরবধি, চলায় ধর্ম চলায় কর্ম,
পেলে বাধা সারা, জোর খাটায় স্রোতধারা।
জোর যদি জেতে তবে, পৌছাবে নদী নিজ গন্তব্যে।
প্রচেষ্টা নয় অনর্থক, তা জীবন করে সার্থক, এমনি এ জীবনধারা।

যদি বাধা কিছু জেতে, কিছু জেতে স্রোত
একে বেকে এগোবে নদী, দিকজ্ঞান ঠিক থাকে যদি
মিলিত হবে সে ধারা সাগর সঙ্গমে নিশ্চিত।

ঝড় থেমে গেলে, যদি দেখ ঢুকে কোন জঙ্গলে
দেখবে ঝড় ভেঙ্গেছে মড় মড়, মাথা উঁচিয়ে দাঁড়ানো গাছ সকলে।

ছোট ছোট গাছ যারা, দয়াতে বাচে তারা, মাথা নিচু করে
লাগেনা জেন, ঝড়ের ঝাপটা কোন, তাদের দেহ কলেবরে।
বড় বড় গাছ সব ন্যাড়া, ডাল পাতা ছাড়া, ঝড়ের দাপট সয়ে
ঝরিছে রস কস, শত ক্ষত দিয়ে সারা কাণ্ড বয়ে।

জানে এমনি ভাবে, ঝড় আসবে যাবে, তাতে যায় না দমে
তাতে জীবনের গতি একটুও কমে যায় না থেমে।
জানে তারা, সূর্য কিরণ করবে চুম্বন দেহে সারা
দেবে পুষ্টি, হবে নব সৃষ্টি গাহিবে মুক্তির গান তারা।

উচু করে মাথা যে যার, তাকাবে আবার আকাশ পানে
ভরবে শাখা নব পুস্প পল্লবে, ভ্রমর গাইবে গান আপন মনে।

লতা নত হয় শত অপমান সয়! গাছের অরণ্যে, বাচার জন্যে
তারা প্রকৃত বৃক্ষ নয়, বেচে থাকে তারা অন্যের দয়ায়।

বাচার জন্য যে নত জানু হয় এ ধরায়, তাকে কেমনে জীবন কয়!
যে জল থাকে জমি, সেত আবদ্ধ জলাভুমি, তা কেমনে নদী হয়!